• ৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাওলানা ফেরদাউস আওয়ামী দোসরদের পুনর্বাসনের অপচেস্টায় লিপ্ত: কাজী মাজেদুল

ফতুল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৫, ০৩:২৭ পূর্বাহ্ণ
মাওলানা ফেরদাউস আওয়ামী দোসরদের পুনর্বাসনের অপচেস্টায় লিপ্ত: কাজী মাজেদুল

বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফেরদাউস পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর। ৫ আগস্টের পর আওয়ামী দোসর রাজ্জাক বেপারীর সম্পত্তি রক্ষায় মাঠে নেমেছেন।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের বাংলাদেশের সাইনবোর্ড কার্যালয় ভাংচুরের ঘটনায় মাওলানা ফেরদাউসুর রহমানের বক্তব্যের প্রতিবাদে এমন অভিযোগ করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য কাজী মাজেদুল হক মাজু।

সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর)দুপুরে ফতুল্লার ভুইগড় রুপায়ন টাউনের নিজ অফিসে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কাজী মাজেদুল হক বলেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর সংবাদ মাধ্যমে জানতে পারি যে, সাইনবোর্ডে অবস্থিত জমিয়তে উলামায়ে দলের কার্যালয় ভাংচুর করা হয়েছে। জমিয়তে ওলামা নেতা মাওলানা ফেরদৌস ভাংচুরের সাথে আমি সহ তিন জন জড়িত করস সংবাদ মাধ্যমে বক্তব্য প্রদান করেন। যাহা সম্পুর্ন মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত। কোন প্রকার তথ্য প্রমান ছাড়া আমাদের নামে মিথ্যাচার করেছেন তিনি। এহেন মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমরা কোনভাবেই এসব অপকর্মের সাথে জড়িত নই।

মাজেদুল হক মাজু বলেন, সাইনবোর্ডে আমার পৈত্রিক জায়গায় একটি মার্কেট রয়েছে। বিগত ১৫ বছর স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা রাজ্জাক বেপারী ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে দখল করে রেখেছিল। ৫ গত বছরের আগস্টের পর রাজ্জাক বেপারী পালিয়ে গেলে আমি আমার সম্পত্তি উদ্ধার করতে সক্ষম হই। কিন্তু চলতি মাসের ৬ সেপ্টেম্বর একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী অস্ত্রসহ নিয়ে দখলের উদ্দেশ্যে হামলা করে।

ভাড়াটিয়া দোকানীদের মারধর করে নগদ টাকা লুট করে দোকান থেকে তাদের বের করে তালা মেরে দেয়। পরবর্তীতে তালা খুললে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে চলে যায়। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই এবং ফতুল্লা থানা পুলিশ জানালে তাদের সহযোগিতায় তালা খুলি। এ ঘটনায় আমি ফতুল্লায় একটি অভিযোগ দায়ের করি।

তিনি আরও বলেন, আমরা লক্ষ করছি যে, মাওলানা ফেরদাউস ক্ষমতা হারনো আওয়ামী দোসর রাজ্জাক বেপারীর পক্ষ নিয়ে সম্পত্তি দখলের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। আমি সংবাদ মাধ্যমে জানতে পারি যে, জমিয়তে উলামা কার্যালয় ভাংচুর হয় এবং ভাংচুরের ঘটনায় আমি সহ আরো দুজনকে জড়িয়ে মাওলানা ফেরদাউস মিডিয়ায় প্রচার করেন।উদ্ভুত ঘটনায় আমার ধারনা আমার মার্কেটে হামলা এবং একই দিনে জমিয়তে উলামা কার্যালয় ভাংচুর একই সুত্রে গাঁথা এবং পরিকল্পিত।

আমার বক্তব্য হলো জমিয়তে উলামায়ে দলের অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ এবং আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ দেখলেই পরিস্কার হয়ে যাবে কারা এই ভাংচুরের সাথে জড়িত। কিছুদিন আগে মাওলানা ফেরদাউস আমার মার্কেট দখলের হুমকি দেন। আপনার খোঁজ নিয়ে জানিতে পারবেন মাওলানা ফেরদাউস এই মার্কেটের ৪ টি দোকান থেকে এখনো জোরপূর্বক প্রতি মাসে ভাড়া নিয়ে যান। রাজ্জাক বেপারীর সাথে আমার মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব। কিন্তু মাওলানা ফেরদাউস কোন সুত্র কিংবা কিসের ভিত্তিতে ভাড়া নেন। এর আশেপাশেও তার কোন জমি নেই।

আমার মার্কেট দখলের উদ্দেশ্যে হামলার ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং তার নিজের ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করতেই তাদের অফিসমিথ্যাচার করেছেন মাওলানা ফেরদাউস। তিনি বলেন গত ১৫ বছর মামলা হামলা নির্যাতনের শিকার হয়েছি বাড়িছাড়া হয়েছি। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পরেও তাদের দোসররা এখনো আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে।

 

তিনি বলেন, ফেরদাউস ফ্যাসিবাদের দোসরদের আশ্রয় প্রশ্রয় দেন এবং প্রভাব বিস্তারের লক্ষে দোসরদের পুনর্বাসনের চেস্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা কাজী মাজেদুল। তিনি বলেন, আপনারা অনুসন্ধান করে প্রকৃত সত্য উন্মোচন করুন। আমি দোষী প্রমাণিত হলে আমার বিচার করবেন। কিন্তু কেউ ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত ভাবে নিজ কার্যালয় ভাংচুরের মত ন্যারেটিভ তৈরি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিনা তা খঁজে বের করার আহবান জানান।